বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিরাপদ হোটেল খুঁজে দেবে কলকাতার হাসপাতালগুলো
চিকিৎসা নিতে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সেখানকার হাসপাতালগুলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতার কয়েকটি হাসপাতাল। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি কলকাতায় যাওয়ার আগে নিরাপদ হোটেল বাছাই ও বুকিংয়েও সহায়তা করবে এসব হাসপাতাল।
সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। এরপর কলকাতায় থাকা-খাওয়ার জায়গার নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশি রোগী ও ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে কলকাতার বাংলাদেশ হাইকমিশন চিকিৎসা বা অন্য প্রয়োজনে কলকাতা ভ্রমণকারীদের আগে থেকেই নিরাপদ হোটেল বুক করার পরামর্শ দিয়েছে। হোটেলটির প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।
কলকাতার হাসপাতালগুলো মনে করছে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেক রোগীর জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হোটেল খুঁজে নেওয়া সহজ নাও হতে পারে। তাঁদের বড় একটি অংশ সড়কপথে কলকাতায় যান এবং চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি আবাসনের ব্যয়ও কম রাখার চেষ্টা করেন। ফলে হাসপাতালের আশপাশের তুলনামূলক সস্তা আবাসনে থাকার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছে। হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকার হোটেল ও অতিথিশালাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
দক্ষিণ কলকাতার বিপি পোদ্দার হাসপাতাল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালের কাছেই নিজস্ব আবাসনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। হাসপাতালের গ্রুপ অ্যাডভাইজার সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, রোগীদের চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে হাসপাতালের কাছাকাছি আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য কলকাতার উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। হাসপাতালটি আলিপুর এলাকার কয়েকটি অতিথিশালা ও হোটেলের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। আগামী দুই সপ্তাহে কলকাতায় যেতে চাওয়া রোগীদের এসব আবাসনের তালিকা দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ভ্রমণের আগেই কক্ষ বুক করতে পারেন।
হাসপাতালটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রূপক বড়ুয়া বলেন, নিরাপদ হোটেলে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে রোগীদের সচেতন করা হবে।
কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতালও বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। হাসপাতালটি তাঁদের জন্য বিশেষ ডেস্ক চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতালের কাছাকাছি নিরাপদ আবাসনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। রোগীরা ভ্রমণের আগে যাতে কক্ষ বুক করতে পারেন, সে বিষয়েও সহায়তা করা হচ্ছে।
কলকাতার দেশসুন হাসপাতালের আন্তর্জাতিক সেলও বিদেশি রোগীদের জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করতে শুরু করেছে। হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সজল দত্ত বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের পরামর্শ রোগী ও ভ্রমণকারীদের আগে থেকেই আবাসনের পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করছে।
ভারতে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হতে বাংলাদেশি রোগীদের সাধারণত মেডিকেল ভিসা প্রয়োজন হয়। তবে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে মেডিকেল ভিসা প্রয়োজন হয় না। জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেও মেডিকেল ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হলেও কলকাতায় বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ভ্রমণে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। তাঁদের মতে, রোগী কলকাতায় পৌঁছানো থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত দিন