হবিগঞ্জে আবারও ভাঙল খোয়াই নদীর বাঁধ, পানিবন্দি শত শত পরিবার
হবিগঞ্জের লস্করপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ফের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে কালিগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকায় আগে সংস্কার করা বাঁধের একটি অংশ আকস্মিকভাবে ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ঢুকে পড়ে আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি, সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে। এতে কয়েক শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার বিকেল থেকেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। রাতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অংশে চাপ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কালিগঞ্জ বাজার এলাকায় বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বালু ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবে পানির তীব্র স্রোতের কাছে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এ নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, প্রায় দেড় মাস আগেও একই স্থানে বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। পরে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হলেও তা যথাসময়ে শেষ হয়নি। পুরোনো ক্ষত শুকানোর আগেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দেওয়ায় অনেক পরিবার নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি এবং সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণেই বাঁধটি টেকসই হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা ও উজানের ঢলের সময় বাঁধটির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগাদাও দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের গতি বাড়েনি। ফলে পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল বাঁধটি আর স্রোতের চাপ ধরে রাখতে পারেনি। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্টরা নদীর পানি প্রবাহ ও বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সুইচগেট খুলে দেওয়ার পর উজান থেকে পানির চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয়ভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতও হয়েছে। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি। পানি বাড়ার পর ওই অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত বাঁধ সংস্কার, পানি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত দিন