খামেনির মৃত্যুতে ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে না: ফারাহ পাহলভি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যু ‘ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ’ হলেও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে না বলে মন্তব্য করেছেন, দেশটির শেষ শাহের বিধবা স্ত্রী ও রেজা পাহলভির মাতা ফারাহ পাহলভি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্যারিসে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে প্যারিসে নির্বাসিত জীবনে থাকা ফারাহ পাহলভি বলেন, ‘ক্ষমতার কাঠামোর কেন্দ্রে থাকা কোনো ব্যক্তির চলে যাওয়া মানেই একটি ব্যবস্থার সমাপ্তি নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘মূল বিষয়টি হবে ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষমতা। তারা যদি একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং সার্বভৌম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনের শাসন দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, তবেই তা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি চাই বিশ্ব সম্প্রদায় স্পষ্টভাবে ইরানিদের মৌলিক অধিকারগুলোকে সমর্থন করুক। তাদের নিজেদের নেতা বেছে নেওয়া, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করা এবং মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।’ এই সমর্থন ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বদলে জনগণের স্বার্থে হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে পাহলভি দেশটির কর্মকর্তাদের প্রতি সংযম প্রদর্শনের এবং রক্তপাত এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ফারাহ পাহলভির পুত্র এবং শাহের উত্তরাধিকারী রেজা পাহলভি বর্তমান সংকটে নিজেকে একটি বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি ইরানের জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিকে বিচ্ছিন্নতাবাদের কাজে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে নির্বাসনে থাকা পাহলভি পরিবার এখন ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের আশায় বিশ্ব জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরানের ভেতরে এই পরিবারের প্রভাব এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে