তেহরানের আজাদি স্কয়ারে খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা আজ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ তেহরানের ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষের সমগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম শোকানুষ্ঠানে পরিণত হতে যাচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল রোববার ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজ সোমবার (৬ জুলাই) খামেনির মরদেহ রাজধানীর আজাদি স্কয়ারে নিয়ে আসা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত কয়েক মাইল দীর্ঘ এক শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে রাস্তার দুপাশে শোকাহত মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়াত নেতার প্রতি সম্মান জানাবেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অন্যতম প্রতীক এই আজাদি স্কয়ার এখন জাতীয় শোকের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা খামেনির প্রায় চার দশকের শাসনামলকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
সোমবারের শোকযাত্রার পর মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমে। বুধবার তাঁর মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর কফিন পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে উত্তর-পূর্ব ইরানে খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে এবং আগামী বৃহস্পতিবার সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুধু প্রয়াত নেতাকে সম্মান জানানোর জন্যই নয়, বরং তাঁর অবর্তমানেও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজন করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, খামেনির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলছে।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার প্রথম দিন পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন। চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে তাঁর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন চার মাসেরও বেশি সময় পিছিয়ে যায়। গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু হয় এবং জাতীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে রোববার ও সোমবার ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মতামত দিন