Views Bangladesh Logo

ইসরায়েলকে ‘ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার’ আখ্যা দিয়ে উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি খামেনির

পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইরানের জনগণের প্রতি এক বিশেষ বার্তায় ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে নির্মূল করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে ইরানি হাজিদের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি পাঠ করা হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, খামেনি তার বার্তায় ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, চলমান দ্বিতীয় আরোপিত যুদ্ধে ইরান তার বিধ্বংসী আঘাতের মাধ্যমে জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ অসহায় ও কোণঠাসা করে ফেলেছে।

খামেনি জোর দিয়ে বলেন, এ বছর হজের অন্যতম প্রধান শিক্ষা ‘মুশরিকদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুখতা’ প্রদর্শনের বিষয়টি মুসলিম বিশ্বের জন্য দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল শাসনের বিরুদ্ধে এই সম্পর্কচ্ছেদের গভীরতা এখন শুধু হজের আনুষ্ঠানিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

এবারের হজের মৌসুমে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান দুটি এবার সমগ্র ইসলামিক উম্মাহর প্রধান ও প্রচলিত স্লোগানে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খামেনি ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিকে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ৪৭ বছর আগে এই অস্ত্রের ওপর ভর করেই ইরান থেকে স্বৈরাচারী পাহলভি শাসন উৎখাত করা হয়েছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই শক্তির কারণেই আজ লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও আফগানিস্তানের মুজাহিদ যুবকদের প্রতিরোধ ফ্রন্ট এক সুতোয় বেঁধেছে এবং ‘তুফানুল আকসা’র মতো অভিযান পরিচালনা করে ইহুদিবাদী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ড আর মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না এবং আমেরিকা এই অঞ্চলে তার নিরাপদ অবস্থান হারাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসরায়েল প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, ক্যানসারসদৃশ ইহুদিবাদী শাসনটি তার অভিশপ্ত জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং মহান শহীদ নেতার দূরদর্শী ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই শাসনের আর কোনো অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। আগামী দিন কেবলই মুসলিম উম্মাহ এবং নতুন ইসলামিক সভ্যতার অধীনে থাকবে উল্লেখ করে তিনি সব দেশের হাজিদের ফিলিস্তিন ও মসজিদুল আকসার মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য বিশেষ দোয়া করার অনুরোধ জানান।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং ফার্স নিউজ

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ