বিক্ষোভকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানে বিক্ষোভকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিদেশি ‘ভাড়াটেদের’ কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা অন্য দেশের প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে নিজেরাই নিজেদের রাস্তা নষ্ট করছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। এ সময় ইরানের নির্বাসিত স্বঘোষিত ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলভিও দেশবাসীকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। অনেক জায়গায় রাস্তায় ভাঙাচোরা জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভ নিয়ে খবর প্রচার শুরু করে। সেখানে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টরা’ অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা ছড়িয়েছে। হতাহতের কথা স্বীকার করা হলেও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
খামেনির ভাষণের সময় উপস্থিত জনতা ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস চাই’ স্লোগান দেয়। ভাষণে তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ইরান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। গত ২৮ ডিসেম্বর দুর্বল অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
চলমান এই আন্দোলন নির্বাসিত রেজা পাহলভির জনসমর্থন যাচাইয়েরও একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে তাঁর বাবা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এবারের বিক্ষোভে শাহের পক্ষে স্লোগানও শোনা গেছে, যদিও অতীতে এ ধরনের স্লোগানের জন্য কঠোর শাস্তির নজির রয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
এদিকে আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ওদের অবস্থা খুব খারাপ। যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, আমরা কঠোরভাবে আঘাত হানব।
একই সঙ্গে ট্রাম্প রেজা পাহলভিকে ‘ভালো মানুষ’ বলে মন্তব্য করলেও আপাতত তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ উপযুক্ত নয় বলেও জানান।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে