Views Bangladesh Logo

৪ পিপিএসের পদত্যাগে প্রবল চাপে স্টারমার, পদত্যাগ দাবি আরও ৭০ লেবার এমপির

নিজ দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের অনাস্থা ও পদত্যাগের দাবিতে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার দাবিতে ইতোমধ্যেই চারজন পিপিএস (পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি) পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া হাউস অব কমন্সের লেবার পার্টির ৭০ জন সংসদ সদস্যও (এমপি) এখন তার পদত্যাগ দাবি করছেন।

এর আগে গত সোমবার নিজেকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন স্টারমার। তবে তার সেই আহ্বানে যে দলের ভেতরে তেমন সাড়া মেলেনি, বর্তমান পরিস্থিতি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। লন্ডনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে স্টারমার দল ও ভোটারদের প্রতি তার পাশে থাকার আবেগঘন আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নেতৃত্বের লড়াই এই মুহূর্তে কেবল বিশৃঙ্খলাই বয়ে আনবে।’ একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে আরও সাহসী ভূমিকা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

মূলত গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয় ঘটার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে এই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এছাড়া অর্থনীতিসহ দেশের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের বড় একটি অংশ তার ওপর অসন্তুষ্ট।

পদত্যাগকারী পিপিএসদের মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সহযোগী মেলানি ওয়ার্ড, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহযোগী জো মরিস, পরিবেশমন্ত্রীর সহযোগী টম রুটল্যান্ড এবং ক্যাবিনেট অফিসের সহযোগী নওশাবাহ খান। এই চার পিপিএস মনে করেন, ৬৩ বছর বয়সী স্টারমার ২০২৯ সালের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। তারা দ্রুত একটি নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছেন, যা সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

পদত্যাগপত্রে পিপিএস টম রুটল্যান্ড লিখেছেন, ‘এটি আমার কাছে স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী কেবল লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যেই নয়, বরং পুরো দেশেই তাঁর কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং তিনি তা আর ফিরে পাবেন না।’

নওশাবাহ খান বলেন, ‘আমি ব্যর্থতা দেখে চুপ থাকার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার।’

অন্যদিকে পিপিএস মেলানি ওয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, তবে গত সপ্তাহের নির্বাচনের বার্তা স্পষ্ট।’

সব মিলিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ