পেলে-ফন্টেইনকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন কেইন
একটি রাত, একটি ম্যাচ আর দুটি গোল; এতেই বদলে গেল ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ডবই। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে একসঙ্গে একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অ্যাটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় ওঠে ইংল্যান্ড, আর সেই জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন কেইন।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে সমতাসূচক গোল করে নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১২-তে নিয়ে যান হ্যারি কেইন, যা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডের সমান। এরপর মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে, ৮৬তম মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে দ্বিতীয় গোলটি করে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে যান ১৩-তে; আর তাতেই ইতিহাসের পাতায় পেলেকে ছাড়িয়ে যান তিনি। ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি মাত্র ১৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ১২ গোল করেছিলেন এবং একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) জেতার কীর্তি গড়েছিলেন।
১৩ গোল নিয়ে ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের বিখ্যাত রেকর্ডের সমানও হয়ে গেছেন কেইন। এই কীর্তিতে সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় এখন যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছেন দুজন। নতুন এই তালিকার শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি (১৯ গোল), এরপর যথাক্রমে কিলিয়ান এমবাপে (১৮ গোল), মিরোস্লাভ ক্লোজা (১৬ গোল), রোনালদো (১৫ গোল) এবং গার্ড মুলার (১৪ গোল)।
এই কীর্তি নতুন নয় কেইনের জন্য। গত শনিবার পানামার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে গোল করেই গ্যারি লিনেকারের রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার আসনে বসেছিলেন তিনি। আজকের জোড়া গোলে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিলেন কেইন।
শুধু বিশ্বকাপেই নয়, ইংল্যান্ডের হয়ে বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে (বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে) কেইনের মোট গোলসংখ্যা এখন ২০টি, যা এই তালিকাতেও তাঁকে শীর্ষে রেখেছে। জাতীয় দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ১১৭ ম্যাচে ৮৪ গোল করে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও আছেন তিনি; আজকের গোল দুটি সেই সংখ্যাকেও নিয়ে গেল নতুন উচ্চতায়।
চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই ইংলিশ তারকা। এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন তিনি, যা শীর্ষে থাকা মেসি ও এমবাপের চেয়ে মাত্র এক গোল কম। প্রসঙ্গত, ২০১৮ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন কেইন, আর এখন সেই কীর্তি থেকে তিনি মাত্র এক গোল দূরে দাঁড়িয়ে।
ম্যাচের ৭ মিনিটেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ সময় কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত সব সেভে গোলের দেখা পাচ্ছিল না থ্রি লায়নরা। শেষ পর্যন্ত সেই দেয়াল ভেঙে দলকে জয় এনে দেন কেইন; আর তাতেই ব্যক্তিগত কীর্তির পাশাপাশি দলের জন্যও এনে দিলেন স্বস্তির জয়।
একটি ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও শক্তভাবে খোদাই করে নিলেন হ্যারি কেইন। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড, আর সেই ম্যাচেও নতুন কোনো রেকর্ডের হাতছানি নিয়েই মাঠে নামবেন কিনা কেইন; সে দিকেই এখন তাকিয়ে ফুটবলবিশ্ব।
মতামত দিন