জাবি শিক্ষক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা শিক্ষার্থীদের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক অপপ্রচার, সাইবার বুলিং ও পরিকল্পিত মানহানির অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকের বক্তব্যকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে, বিকৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এটি কোনো গঠনমূলক সমালোচনা নয়; বরং একজন শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যে ভাষা, ভঙ্গি ও উপস্থাপনা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কেবল একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক বার্তা বহন করে। নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে তারা এটিকে ‘প্রতীকী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার’ ঘটনা হিসেবে দেখছেন, যেখানে একজন নারী শিক্ষককে কেন্দ্র করে এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে সব নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ভয়, নীরবতা ও আত্মসংযমের চাপ সৃষ্টি করে।
বিবৃতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। এ ক্ষেত্রে জাকসু বা এর কোনো সদস্যের অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো এখতিয়ার নেই। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমা লঙ্ঘনের শামিল।
তারা আরও দাবি করেন, ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত মানহানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর একটি স্পষ্ট লিঙ্গভিত্তিক মাত্রা রয়েছে। একজন নারী শিক্ষককে লক্ষ্য করে বক্তব্য বিকৃত করা এবং অনলাইনে তাকে আক্রমণের মুখে ঠেলে দেওয়া সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গ পক্ষপাত ও কাঠামোগত সহিংসতার প্রতিফলন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি ইতোমধ্যে উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে— মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য অবিলম্বে প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, জাকসুর পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার বুলিং ও অপপ্রচার ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষককে লক্ষ্য করে এভাবে আক্রমণ করা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং একটি মুক্ত একাডেমিক পরিবেশকে আঘাত করে, যেখানে সমালোচনা, বিশ্লেষণ ও মতপ্রকাশ স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার কথা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে