জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী কারাগারে
ফেসবুকে জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের কটূক্তি করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শারাফাত শারিক রোহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মানষ ভদ্র সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় বৃহস্পতিবার রোহানকে আদালতে হাজির করেন। এ সময় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রোহানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের পক্ষে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি অন্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, জামিনে মুক্তি পেলে রোহান পলাতক হতে পারেন। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ জানান, আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রোহানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বুধবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে রোহানকে আটক করেন জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ আবু সৈয়দ আশুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রোহানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রোহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গত ৫ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে হল ছাত্র সংসদের নেতারা তাকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
মতামত দিন