Views Bangladesh Logo

তিন অধ্যাদেশ বাতিল, পুরোনো কাঠামোয় ফিরছে বিচার বিভাগ

বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে পৃথক দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

এর মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশও বাতিল করা হয়। এর ফলে বিচার বিভাগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত পৃথক কাঠামোগুলো আর কার্যকর থাকছে না।

বিরোধী দলের সদস্যরা এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে। তারা মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগের স্বতন্ত্র আইন বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এসব অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় সেই অগ্রগতি থেমে গেল বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে সরকারপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, এসব অধ্যাদেশ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং কার্যকারিতাও প্রমাণিত হয়নি। তাই পূর্বের প্রচলিত ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়াই অধিক যৌক্তিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত। সরকার মনে করছে, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন থাকছে না। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তিও বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার আগের কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন। সংসদের এই সিদ্ধান্ত দেশের বিচার ব্যবস্থার কাঠামো বিগত আওয়ামী লীগ আমলেরটায় ফিরবে। একটি বড় পরিবর্তন আসবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ