গ্রুপ-জে
লড়াকু মানসিকতায় চমক দেখাতে প্রস্তুত জর্ডান
এশিয়ান ফুটবলের উদীয়মান দল জর্ডানবিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে এবার মাঠে নামছে। দলটি মূলত তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দলীয় সমন্বয় এবং লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় কোনো পরাশক্তি না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে জর্ডান নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দলটি ৬৩তম স্থানে অবস্থান করছে। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার মিশেলে গড়া স্কোয়াড নিয়ে তারা এবার বিশ্বকাপে চমক দেখানোর প্রত্যাশা করছে।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
বিশ্বকাপে এবারই অভিষেক হচ্ছে জর্ডানের। বাছাই পর্বে দলটির অসাধারণ পারফরমেন্স এবারের বিশ্বকাপ আসরে তাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে বড় টুর্নামেন্টের চাপ সামলানোই তাদের জন্য হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এশিয়ান ফুটবলে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তাই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার এটিই তাদের বড় সুযোগ।
শক্তিমত্তা
জর্ডানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত দলীয় খেলা এবং রক্ষণভিত্তিক কৌশল। তারা সাধারণত গভীর রক্ষণে থেকে প্রতিপক্ষকে আক্রমণে ভুল করতে বাধ্য করে এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ তৈরি করে। শারীরিকভাবে পরিশ্রমী খেলোয়াড়দের কারণে তারা পুরো ম্যাচজুড়ে চাপ ধরে রাখতে সক্ষম। সেট-পিস থেকেও গোল করার সক্ষমতা রয়েছে দলটির। এছাড়া দলীয় ঐক্য এবং শৃঙ্খলা তাদের অন্যতম বড় শক্তি।
দুর্বলতা
তবে জর্ডানের দুর্বলতাও অনেক। আক্রমণে ধারাবাহিক ফিনিশিংয়ের অভাব তাদের বড় সমস্যা। টেকনিক্যালি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারা অনেক সময় বল দখলে পিছিয়ে পড়ে। মাঝমাঠে সৃজনশীলতার ঘাটতির কারণে আক্রমণ গড়ে তুলতে কষ্ট হয়। এছাড়া বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা কম থাকায় চাপের মুহূর্তে ভুল করার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
জর্ডানের আক্রমণের অন্যতম ভরসা আলী ওলওয়ান, যিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল শাবাবের হয়ে খেলেন। তার গতি ও গোল করার দক্ষতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মাঝমাঠে মুসা আল-তামারি ফ্রান্সের ক্লাব মন্টপেলিয়ের হয়ে খেলেন এবং আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইংল্যান্ডের ক্লাব নরউইচ সিটির হয়ে খেলা ইয়াজান আল-আরাবর ক্ষণভাগের মূল ভরসা। গোলপোস্টে ইয়াজেদ আবু লায়লা দলের অন্যতম প্রধান শক্তি।
প্রতিপক্ষ
গ্রুপ জে-তে জর্ডানের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া। এই গ্রুপে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ, যেখানে বিশ্বমানের আক্রমণভাগ সামলানো অত্যন্ত কঠিন হবে। ওই ম্যাচে তাদের মাঝমাঠে বল দখলের সমস্যা হতে পারে। অস্ট্রিয়ার গতির বিপক্ষে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জর্ডানকে দ্রুতগতির আক্রমণ সামলাতে হবে এবং সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
জর্ডানকে এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী দলগুলোকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে তাদের সংগঠিত ফুটবল ও লড়াকু মানসিকতা যেকোনো বড় দলের জন্য অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যদি তারা রক্ষণে স্থিরতা ধরে রাখতে পারে এবং আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে