গতি আর ছোট পাসে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখবে জাপান
বিশ্ব ফুটবলের উদীয়মান শক্তি জাপান আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে মুখিয়ে আছে। ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৮তম স্থানে থাকা জাপান শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দ্রুতগতির ফুটবলের জন্য পরিচিত। এই দলটি গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক উন্নতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি আরও গতিশীল হয়েছে। বল দখল, দ্রুত ছোট পাস ও সংগঠিত দলগত খেলায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই দলটির মূল কৌশল।
বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
জাপান বিশ্বকাপের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্টে খেলছে। একাধিকবার নকআউট পর্বে উঠলেও তারা এখনো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে ২০০২, ২০১০ ও ২০১৮ সালে তারা শেষ ষোলোতে পৌঁছে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সাম্প্রতিক আসরগুলোতে তাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হয়েছে।
শক্তিমত্তা
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয়। তারা দ্রুত পাসিং ও অফ-দ্য-বল মুভমেন্টের মাধ্যমে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। মাঝমাঠে দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলায় তারা দক্ষ। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কঠোর পরিশ্রমী দলটিকে সবসময় প্রতিযোগিতামূলক রাখে। এছাড়া ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলা বজায় রেখে পুরো দল একসঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণে অংশ নেয়।
দুর্বলতা
তবে জাপানের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারা অনেক সময় পিছিয়ে পড়ে। ডিফেন্সে উচ্চতার ঘাটতির কারণে সেট-পিস থেকে গোল হজম করার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার অভাব মাঝে মাঝে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ে ধারাবাহিকতা না থাকাও একটি সমস্যা।
গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছেন। ডিফেন্সে মায়া ইয়োশিদ অভিজ্ঞতা দিয়ে রক্ষণভাগকে সংগঠিত করেন। মাঝমাঠে জার্মানির ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্ট-্য়াএ খেলা তারু এন্দো দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। আক্রমণে ফ্রান্সের ক্লাব এএস মোনাকোর খেলোয়াড় তাকুমি মিনামিনো গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্টেও বেশ কার্যকর। এছাড়া উইংয়ে ইংল্যান্ডের ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয় খেলা কাওরু মিতোমা দলের আক্রমণে গতি এনে দেন।
গ্রুপ প্রতিপক্ষ
এফ গ্রুপে জাপানের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তাদের ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা ও পাসিং ফুটবল সামাল দেওয়া। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচ হবে শারীরিক লড়াই, যেখানে আকাশেভাসা বল মোকাবিলা গুরুত্বপূর্ণ হবে। উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও কঠিন হবে। কারণ তারা দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক হতে পারে। এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং নকআউট পর্বে উঠতে হলে জাপানকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দিতে হবে।
এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিশ্বকাপে জাপানকে এখন আর ছোট দল হিসেবে দেখা হয় না। যদি তারা তাদের গতি, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয় ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও চমক দেখানোর সামর্থ্য তাদের রয়েছে। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে জাপানের এবার নকআউট পর্বে খেলার উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে