Views Bangladesh Logo

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩০

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দেশটির জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সদর দপ্তরের এক বৈঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

গত মঙ্গলবার আঘাত হানা এই ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পনের পর থেকে ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎলাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর একটি ছিল কাশিমা শহরের ‘ইওন শপিং মল’। এতে মলটির দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ভবনটিতে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণও ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টের ধারণা, বিস্ফোরণটি সম্ভবত গ্যাস লিকেজ থেকে হয়েছে; তবে প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন। মলটিতে বর্তমানে হাজারো উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এপ্রিলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গত মাসেই মলটি নতুন করে সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। সেই সময় এই অঞ্চলে ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিকে ভূমিকম্পে ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন পেপারের একটি কারখানার অংশ ধসে পড়ে। সেখানেও অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

নিপ্পন পেপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপে কারখানাটির মোট ১১ জন আটকা পড়েছিলেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করতে পেরেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মাঝে দুর্গতদের জন্য নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র দাবদাহ। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক দিনে প্রিফেকচারটিতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। এর ফলে দুর্গত ও উদ্ধারকর্মীদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করা এবং পানিশূন্যতামুক্ত রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুমামোতোতে ৩০০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি, যার অর্ধেক আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থাপন করা হবে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) প্রাথমিক হিসাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ১ বলা হলেও পরবর্তীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ৮ নির্ধারণ করে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। পুনরায় ভূকম্পনের আশঙ্কায় বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৯,০০০ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আবার ঘরে না ফিরে গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত প্রিফেকচারটির ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

প্রশাসন আরও জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিখোঁজদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল পুরোদমে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র: বিবিসি

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ