গুলিস্তানে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে মার্কেট দখলের অভিযোগ
ঢাকার গুলিস্তানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী পরিচয়ে ‘দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজির’ অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২-এর দোকানমালিক ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলে।
‘নগর প্লাজা’ নামে পরিচিত মার্কেটটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন। সোমবার দুপুরে মার্কেটের নিচতলায় ‘ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২-এর দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর মো. সুমন (আলী হাসান সুমন), আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে।’
কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, ‘বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৪০ লাখ টাকা, ওয়াসা বিলের ২৮ লাখ টাকা এবং লিফট মেরামতের নামে আদায় করা প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তারা মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
এদিকে ফুলবাড়ীয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ তুলে রোববার বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতপন্থি ব্যবসায়ীরা। পুলিশ জানিয়েছে, এ মিছিল ঘিরে সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর লোকজনের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আগের দিনের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান বলেন, ‘তারা শান্তি মিছিলের নামে রিকশায় করে লোকজন এনে হকিস্টিক বিতরণ করেছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আত্মস্বীকৃত দখলদার ও চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে গুলিস্তান এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কেন?’
এক প্রশ্নের জবাবে ছিদ্দিক হাওলাদার নামের এক দোকানমালিক বলেন, ‘ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২-এ বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মামুন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে আলী হাসান সুমন জামায়াতে ইসলামীর রুকন। ফুলবাড়ীয়া মার্কেটকেন্দ্রিক জামায়াতের একটি কমিটিও রয়েছে, যেখানে তিনি আমিরের দায়িত্বে আছেন।
চাঁদাবাজি ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এ সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মো. কিবরিয়া সাধীন, মো. কবীর হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. কাউসার উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন