নারীবিদ্বেষ জামায়াতের রাজনৈতিক ডিএনএ: নাসির
নারীবিদ্বেষ জামায়াতের রাজনৈতিক ডিএনএ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
তিনি বলেন, জামায়াত যদি কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের নারীদের জন্য ভয়াবহ ও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার অর্থই হবে নারীদের ঘরে বন্দি করা, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই পোস্ট দেন নাসির।
নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ডাকসু এ দেশের গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ে ডাকসুর ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
তিনি বলেন, এমন একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানকে ‘মাদকের আড্ডাখানা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ বলে আখ্যা দেওয়া জামায়াতী রাজনীতির চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীর প্রতি সরাসরি অবমাননা এবং পদ্ধতিগত নারী-বিদ্বেষের প্রকাশ।
জামায়াতের রাজনীতি প্রসঙ্গে নাসির বলেন, এই বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ যাদের রাজনৈতিক ডিএনএতেই নারী-বিদ্বেষ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ইতিহাস গেঁথে আছে, তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
তিনি ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সংগঠনের নেতাকর্মীরাই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সহযোগী হয়েছিল। আজ জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার তাদের সেই পুরোনো অন্ধকার মানসিকতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন ছাত্রদলের এই নেতা। তিনি বলেন,
‘তুচ্ছ ইস্যুতে যারা লম্বা বিবৃতি দেয়, তারা আজ রহস্যজনকভাবে নীরব। জামায়াত নেতার এমন জঘন্য বক্তব্যের পরেও অফিসিয়ালি কোনো প্রতিবাদ না জানানো প্রমাণ করে—শিবির-নিয়ন্ত্রিত বর্তমান ডাকসু এখন জামায়াতের দলদাসে পরিণত হয়েছে।’
নাসিরের মতে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাকসুর জন্য এটি চরম লজ্জাজনক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও নারী শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার দায়ে দল হিসেবে জামায়াতকে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে