আমাকে ঘায়েল করতে চেয়েছিল জামায়াত-এনসিপি, এখন তারাই চাপে: রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও পদচ্যুত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এখন তারাই নানা বিতর্কে চাপে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে প্রচারণা শুরু করেন। তাদের ধারণা ছিল, তার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও অভিযোগ তুললে প্রধানমন্ত্রী তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবেন। এমনকি জনসভায় বক্তব্য দিয়েও এ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, পরিস্থিতি এখন উল্টো হয়েছে। যারা তাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছিল, বর্তমানে তারাই নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হিমশিম খাচ্ছে।
এনসিপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের কাছ থেকে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলটির নেতাদের আচরণ জামায়াতের নেতাকর্মীদের মতোই হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেশি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, বিতর্কিত এক জামায়াত সংসদ সদস্যের বিষয়ে এনসিপি কোনো সমালোচনামূলক অবস্থান নেয়নি; বরং তাকে সমর্থন করেছে। এ ঘটনাকে তিনি 'নতুন বন্দোবস্তের লজ্জা' বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের উদ্দেশে রাশেদ খাঁন বলেন, দলটির ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে জনসমক্ষে দলটির অবস্থান ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে। কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তা জনমনে গ্রহণযোগ্য হবে না।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, দ্রুত রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টায় দলটি আদর্শ থেকে সরে এসেছে। এর ফলেই একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়তে হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
মতামত দিন