‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা’র প্রতিশ্রুতি জামায়াতের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক খাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে সরকারি ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজ একীভূত করে ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক নেতা, গবেষক ও পেশাজীবীদের সামনে জামায়াতের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে অনুষ্ঠিত এ সামিটে উদ্বোধনী বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ বড় কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। সব ধরনের নিয়োগ মেধাভিত্তিক হবে।
শিক্ষাখাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে, যাতে মেধাবী দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাও হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড ও ক্যাম্ব্রিজের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায়।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জামায়াত আমির জানান, স্নাতক সম্পন্নের পর চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ তরুণকে সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণের সময় থেকে শুরু করে শিশুর বয়স দুই বছর হওয়া পর্যন্ত মা ও শিশুর পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। ট্যাক্স ও ভ্যাটের হার ধাপে ধাপে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একীভূত করে একটি ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালু করা হবে। আগামী তিন বছরে শিল্প খাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বৃদ্ধি করা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে এসব কারখানা চালু করা হবে এবং এর ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্ট’-এর জন্য একটি নতুন মন্ত্রণালয় গঠন করা হবে। পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ এবং প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানান তিনি।
জামায়াতের প্রচার বিভাগের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এ সামিটে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।
জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে