সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ইইউ প্রতিনিধিদের কাছে শঙ্কা জানাল জামায়াত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না—এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের কাছে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউর এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
ইইউ এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জরুরি। তা না হলে সংকট কমার বদলে আরও গভীর হবে—এই আশঙ্কার কথা ইইউ প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। এতে অতীতের মতো ‘পাতানো নির্বাচন’ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জামায়াতের মতে, এমন নির্বাচন দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় হলেও যেভাবে তা প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা নির্বাচনী ভারসাম্য নষ্ট করছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে সরকার যদি একজনকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা দেয়, তাহলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকেও একই সুবিধা দিতে হবে—যা বাস্তবে হচ্ছে না।
ইইউ প্রতিনিধিদের অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. তাহের জানান, তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জামায়াত স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে—জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালনা করা হবে এবং দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হবে। ইইউ এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে এনসিপিকে ১০টির বেশি আসন ছাড়তে জামায়াত রাজি নয়—এমন সংবাদকে ‘কাল্পনিক’ বলে দাবি করেছেন আব্দুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। জামায়াতের সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং ক্ষমতায় গেলে নেতৃত্বের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হবে না।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের ও কেন্দ্রীয় নেতা শিশির মনির উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে