ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ
ইতালির সরকার স্কুলে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক নিষিদ্ধ এবং শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার নিয়ম কার্যকরের পথে এগিয়েছে। নতুন নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার জাতীয়তাবাদী-রক্ষণশীল ব্রাদার্স অব ইতালি দলের যুব শাখার এক সমাবেশে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর কথা জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার তাঁর মন্ত্রিসভা এ-সংক্রান্ত ডিক্রি-আইন অনুমোদন করে। এতে স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আগামী বছর থেকে যেসব শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত ইতালীয় ভাষা জানে না, একটি শ্রেণিতে তাদের সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
ডিক্রি-আইন হওয়ায় এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে ৬০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে অনুমোদন নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লাকেও এতে স্বাক্ষর করতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা তৈরির বিষয়ে তিনি সতর্কতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে বোরকা-নিকাব বন্ধ করার পদক্ষেপ ‘বিভাজন তৈরি করে না’, বরং ‘সাধারণ বোধের’ বিষয়। তাঁর ভাষ্য, সরকার এমন একটি স্কুলব্যবস্থা চায়, যেখানে নিয়ম মেনে শিক্ষার্থীদের একীভূত করা হবে, বেশি সমস্যায় থাকা শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হবে এবং সবাইকে সমান জায়গা থেকে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে সরকারের বিরোধীরা বলছেন, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে আরও ডানপন্থি ন্যাশনাল ফিউচার দলের জনপ্রিয়তা মোকাবিলায় সরকার এসব নিয়ম ব্যবহার করছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চির নেতৃত্বাধীন দলটি জুলাইয়ে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল।
ইতালির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা জানিয়েছেন, শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ঘনত্ব এড়াতে স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী বণ্টনের সমন্বয় করবে। কোনো স্কুলে নিয়মটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলে সেখানে ছাড় এবং অতিরিক্ত ভাষা সহায়তার ব্যবস্থাও থাকবে। তাঁর হিসাবে, এ নিয়ম দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার শ্রেণিকক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মোট শ্রেণিকক্ষের প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ।
তবে শিক্ষক সংগঠনগুলো পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা করেছে। স্কুলের প্রধানেরাও বেশি অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নিয়মটি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি নাগরিক শিক্ষার্থীর হার ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী থাকা শ্রেণিকক্ষের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
মতামত দিন