লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২৩, পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি হিজবুল্লাহর
লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২৩ জন নিহত এবং ৬৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে চালানো এসব হামলা সীমান্ত সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ)মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে নতুন করে হামলা চালায়। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে স্রিফা, আইতা আল-শাব, তৌলিন, আস-সাওয়ানা এবং মাজদাল সেলেম। শুক্রবার ভোরে পূর্বাঞ্চলের দৌরিস শহরেও একটি হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া দক্ষিণের বৃহত্তম শহর সাইদার (সিডন) কাছাকাছি এলাকাতেও হামলা চালানোর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সময়ে টাইর ও বিনত জবেইল এলাকার আকাশে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের টহল দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়েতেও নতুন হামলা চালিয়েছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ দফা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। ইসরায়েলের দাবি, হামলাগুলোতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার মধ্যে সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদর দপ্তর এবং ড্রোন সংরক্ষণাগার রয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাহিয়ের কিছু অংশ খালি করার নির্দেশ দিলে ব্যাপক আতঙ্ক ও জনস্রোত সৃষ্টি হয়। এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে দাহিয়ে। শত শত পরিবার বৈরুতের উপকূলের দিকে পালিয়ে গেছে এবং অনেকেই সমুদ্রসৈকতে আশ্রয় নিয়েছে। ২০২৪ সালে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর দ্বিতীয়বারের মতো তারা এভাবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলো।
এদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বসতিগুলো খালি করার আহ্বান জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা লেবাননের সীমান্তবর্তী মারুন আল-রাস ও কফার কিলা এলাকার কাছে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তারা গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের ইয়োভ সামরিক ঘাঁটি এবং হাইফা বন্দরের কাছে একটি নৌঘাঁটিতে হামলার কথাও জানিয়েছে।
তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে