Views Bangladesh Logo

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫৩ ফিলিস্তিনি নিহত, দুর্ভিক্ষে আরও দুজন

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলের অবরোধে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে মারা গেছেন আরও দুজন।


গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের ৩৫ জনই গাজা সিটিতে মারা গেছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ২৩ মাসে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৮৭১ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৬৪ হাজার ৬১০ জন। অন্যদিকে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ জনে, যাদের ১৪৫ জনই শিশু।


আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যাপক বিমান হামলায় গাজার উত্তরাঞ্চলের রেমাল ও তেল আল-হাওয়া এলাকায় ৩০টিরও বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।


স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নতুন করে হাজার হাজার মানুষকে এই অঞ্চল থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবিরাম হামলার মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছেড়ে দক্ষিণের আল-মাওয়াসির দিকে ছুটছেন তারা। ইসরায়েল এটিকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা দিলেও সেখানে বারবার হামলা চালানো হচ্ছে।


জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, গত চার দিনেই গাজা সিটিতে তাদের ১০টি ভবন হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি স্কুল ও দুটি ক্লিনিকও রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।


তিনি লিখেছেন, ‘গাজায় কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়। কেউই নিরাপদ নয়’।


বাস্তুচ্যুত আহমেদ আওয়াদ জানান, শনিবারের (১৩ সেপ্টেম্বর) মর্টার হামলার মধ্যে উত্তর গাজা থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়েছেন তিনি।


তিনি বলেন, ‘মধ্যরাতে এসে দেখি, পানি নেই, টয়লেট নেই, কিছুই নেই। পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ’।


ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, আল-মাওয়াসির পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। সংস্থার মুখপাত্র টেস ইঙ্গ্রাম আল জাজিরাকে বলেন, ‘গাজায় কোথাও নিরাপদ নয়, এমনকি এই কথিত মানবিক অঞ্চলও নয়। প্রতিদিন শরণার্থী শিবিরে মানুষের ভিড় বাড়ছে’।


তিনি একজন নারীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যিনি গাজা সিটি থেকে উচ্ছেদের পর রাস্তার ধারে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হন। ইঙ্গ্রাম বলেন, ‘এ রকম হাজারো পরিবার এখানে এসেছে এবং এখন টিকে থাকার ন্যূনতম চাহিদাগুলো মেটাতে সংগ্রাম করছে’।


অন্যদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেই রোববার ইসরায়েল সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বাকি বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইসরায়েলে পৌঁছেই রুবিও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে জেরুজালেমের পশ্চিম প্রাচীর পরিদর্শন করেন। এ সময় নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন, রুবিওর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে পশ্চিম দেয়ালের পাথরের মতোই শক্তিশালী ও টেকসই করেছে। গণমাধ্যমে রুবিওকে ইসরাইলের অসামান্য বন্ধু হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি।



মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ