গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ১২২ জন ফিলিস্তিনি, ‘দুর্ভিক্ষে’ চারজন
গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ১২০ জন ফিলিস্তিনি এবং আগের হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। আহত আরও ৬০৩ জনকে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে জোরপূর্বক অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন আরও চারজন।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২২ মাস পূর্তির দিনে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ২৭০ জনে এবং আরও অন্তত এক লাখ ৫২ হাজার ৪৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ‘দুর্ভিক্ষে’ মারা গেছেন ১৯৭ জন, যাদের ৯৬ জনই শিশু।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রয়োজনীয় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে যুদ্ধে ‘সাময়িক বিরতির’ ঘোষণা দিয়েও গাজাজুড়ে বিমান ও ড্রোন হামলা এবং স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বুধবার (৬ আগস্ট) দিনভর এসব হামলায় নিহত ৯৮ জন ফিলিস্তিনির ৫১ জন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে খাবারের জন্য এসেছিলেন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগের ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও ২২ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের পাঁচজন ত্রাণপ্রার্থী মারা যান দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে জিএইচএফের একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ত্রাণকেন্দ্রে সাহায্য আনতে গিয়ে।
২৭ মে ইসরায়েল বিতর্কিত জিএইচএফের মাধ্যমে নতুন ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করার পর থেকে নিহত মোট ত্রাণপ্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৭১১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও ১২ হাজার ৩০ জনেরও বেশি।
নাসের হাসপাতাল সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার নিহতদের মধ্যে রয়েছে খান ইউনিসে আকাশপথে ফেলা সাহায্য উদ্ধারের চেষ্টারত একজন শিশুও।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, আকাশপথে ফেলা সাহায্য অকার্যকর ও বিপজ্জনক। বেশিরভাগ সাহায্য অনিরাপদ বা দুর্গম এলাকায় পড়ে এবং মানুষকে প্রায়শই বিশৃঙ্খল ভিড়ের মধ্য দিয়ে তা উদ্ধারের চেষ্টা করতে হয়।
গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হন আরও তিনজন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলের শেখ রিদওয়ান এলাকায় একটি বাড়িতে বিমান হামলায় এক বৃদ্ধ ও দুই নারী নিহত হন। এতে আহত হন আরও কয়েকজন।
গাজার মধ্যাঞ্চলের পশ্চিম নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের দুজন শিশু।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে গোলাবর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হন। এতে বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।
একই অঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় উদ্বাস্তুদের তাবুতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় এক নারী ও তার শিশু সন্তান নিহত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজায় এখনও প্রায় ৫০ জন বন্দী রয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদেরকে উদ্ধারের কথা বলেই ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গাজাজুড়ে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ১৮ মার্চ থেকে ফের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে আইডিএফ। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন নয় হাজার ৬৮০ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৬০ জন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে