ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ৬২৭৪৪ ফিলিস্তিনি, দুর্ভিক্ষে মৃত্যু ছাড়াল ৩০০ জন
গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একদিনে নিহত হয়েছেন আরও ৮৬ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৯২ জন। এছাড়া অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন দুজন শিশুসহ আরও ১১ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু যুদ্ধে গত ২২ মাসে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭৪৪ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন। অন্যদিকে জাতিসংঘ ঘোষিত পূর্ণমাত্রার দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিটমহলটিতে অনাহারজনিত মৃত্যু ঘটেছে ৩০০ জনের, যাদের ১১৭ জনই শিশু।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ফিলিস্তিনের গাজা দখলে নিতে স্থল অভিযান আরও জোরদার করেছে ইসরায়েলি সেনারা। সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপত্যকাটির সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা সিটির সাবরা এলাকার আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে তারা। শহরটি দখল এবং প্রায় দশ লাখ বাসিন্দাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের লক্ষ্যে হামলা চালাতে চালাতে উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে সেনারা। পাশাপাশি তীব্রতর হয়েছে বিমান-ড্রোন ও বোমা হামলাও।
চিকিৎসা সূত্রের বরাতে তুর্কি গণমাধ্যম আনাদোলু জানায়, সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতদের ৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায়। বাকি ২৮ জন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রে মানবিক সহায়তা সংগ্রহে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের এলাপাতাড়ি গুলিতে মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ১৮৪ জন। এ নিয়ে গত ২৭ মে ইসরায়েল ও মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিহত সাহায্যপ্রার্থী দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১২৩ জনে, আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৬১৫ জনেরও বেশি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজায় এখনও প্রায় ৫০ জন বন্দী রয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদেরকে উদ্ধারের কথা বলেই ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গাজাজুড়ে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ১৮ মার্চ থেকে ফের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০০ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৪৬ হাজার ২১৮ জন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে