Views Bangladesh Logo

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছাড়াল ৬২ হাজার, দুর্ভিক্ষের মুখে ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি

ত ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ৩৪৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন দুইজন শিশুসহ আরও পাঁচজন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বিমান-ড্রোন ও বোমা হামলাসহ স্থল বাহিনীর সামরিক অভিযান আরও তীব্র করেছে ইসরায়েল। ছিটমহলটির সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটি পুরোপুরি দখলে নেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোচ্ছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষণার পর থেকে সপ্তাহজুড়ে আইডিএফের এই মরিয়া হামলা নগরীটিতে আশ্রিতসহ ১০ লাখ বাসিন্দার জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। বাড়িঘর ছেড়ে অসংখ্য গাজাবাসী পালিয়ে গেলেও অবস্থান করছেন অনেকে, যারা বিশ্বাস করেন, চলে গেলেও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু যুদ্ধে গত ২২ মাসে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৪ জনে, আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৫৬ হাজার ২৩০ জন। অন্যদিকে দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিটমহলটিতে অনাহারজনিত মৃত্যু ঘটেছে ২৬৩ জনের, যাদের ১১২ জনই শিশু।

মন্ত্রণালয় বলছে, বহু মরদেহ ও আহতরা এখনো ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় পড়ে আছে; কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সসহ সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, সোমবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতদের ২৭ জন গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) ত্রাণকেন্দ্রে মানবিক সহায়তা সংগ্রহে গিয়ে মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন ২৮১ জনেরও বেশি। এ নিয়ে গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্য নেয়ার সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৫ জনে এবং আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৭০১ জনেরও বেশি। তাদের এক হাজার ৬৫১ জন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছে এবং বাকি ৫১৪ জন নিহত হয়েছেন ত্রাণবহরের রুটে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ২ মার্চ ইসরায়েল গাজার সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে ২৪ লাখ মানুষের জন্য ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যাদের ১২ লাখই শিশু।

পশ্চিম গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতাল জানায়, খাবারের খোঁজে এসে গাজার মধ্যাঞ্চলে জিএইচএফের দুটি ত্রাণকেন্দ্রে ১৩ জন, উত্তর-পশ্চিমের জিকিমে একটিতে ছয়জন এবং রাফার কাছের একটিতে আটজন ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন। দক্ষিণ গাজার ওয়াদির সালাহ আল-দিন স্ট্রিটের অন্য ত্রাণকেন্দ্রে আহত হন বেশ কয়েকজন।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, উত্তর গাজায় বিমান-ড্রোন থেকে বোমা হামলায় আরও আটজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। পূর্ব গাজা সিটির দারাজে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে একজন মেয়েশিশুসহ তিনজন এবং মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আরও তিনজন নিহত হন। পশ্চিমাঞ্চলের নদীতে নৌকায় গুলি চালানো হলে একজন জেলে নিহত ও তার ভাই আহত হন। আল-শিফা হাসপাতালের বিপরীতে একটি ভবনেও হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের আহত করে ইসরায়েলি সেনারা। জায়তুন ও সাবরা এলাকায় কামানের গোলা নিক্ষেপ ও বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার সময় বুবি ট্র্যাপসহ একটি বাড়িও ভেঙে ফেলে তারা।

অন্যদিকে মধ্যাঞ্চলের নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে গোলাবর্ষণে নিহত এক নারীর মরদেহ আল-আওদা হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালটি জানায়, হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। গাজায় এখনও প্রায় ৫০ জন বন্দী রয়েছে। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ২০ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। তাদেরকে উদ্ধারের কথা বলেই ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গাজাজুড়ে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশের চাপে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ১৮ মার্চ থেকে ফের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে আইডিএফ। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১০ হাজার ৪৬০ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৪৪ হাজার ১৮৯ জন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ