এবার সিরিয়ায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, হতাহত ২৯
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রাজধানী দামেস্কে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রাসাদের কাছে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে কমপক্ষে একজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা শহরে সিরিয়ান সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, দক্ষিণের ওই অঞ্চলটিতে দ্রুজ সম্প্রদায়ের বসবাস। আস-সুওয়াইদা গভর্নরেট নামক অঞ্চলটি মুক্ত করতে গত কয়েকদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে দ্রুজ সম্প্রদায়। ইসরায়েল হুমকি দিয়েছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে গৃহযুদ্ধ কবলিত ওই অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার না করা হলে হামলা আরও বাড়িয়ে দেবে তারা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, বুধবার (১৬ জুলাই) রাজধানী দামেস্কে সরকারপন্থী সামরিক সদর দপ্তরের প্রবেশপথে হামলা চালানো হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে আইডিএফ জানিয়েছে, সিরিয়ার দক্ষিণ অঞ্চলেও হামলা চালানো হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী দামেস্কে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর।
দামেস্কে হামলা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারিমূলক পোস্টে লেখেন, ‘দামেস্কে সতর্কবার্তা শেষ —এখন যন্ত্রণাদায়ক আঘাত আসবে’।
এদিকে সরকারি বাহিনীর কথিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন দক্ষিণ সিরিয়ার শীর্ষ দ্রুজ নেতা হিকমত আল-হিজরি। মঙ্গলবারের (১৫ জুলাই) প্রথম যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে সরকারি বাহিনী। একে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিতে হিকমত আল-হিজরি বলেন, ‘সিরিয়ার সরকারের সাথে কোনো চুক্তি, আলোচনা বা ম্যান্ডেট নেই। আস-সুওয়াইদা গভর্নরেটের পুরো অঞ্চল মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো’।
সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির খবরে অবশ্য এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। কিন্তু তাদের সীমান্তের কাছে দক্ষিণ সিরিয়ার এই এলাকাটিকে সম্পূর্ণরূপে বেসামরিকীকরণ করতে চায় দেশটি। গত কয়েকদিন ধরে ফের এর সপক্ষে বলছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তারা মূলত সিরিয়ার ড্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষায় এটি করছেন বলে মনে করে সিরিয়ার সরকার।
বাশার আল আসাদের শাসনের পতনের পর গত বছরের শেষভাগ এবং চলতি বছরের গোড়ার দিকে ইসরায়েলিরা বিভিন্ন ধরনের সামরিক অবস্থান ও সামরিক গোলাবারুদের ওপর বেশ জটিল ও তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। কারণ তারা বলেছিল, সেগুলো সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতে ব্যবহার করতে পারে। দেশটি চায়, তাদের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে কোনো ধরনের সামরিক উপস্থিতি না থাকুক।
কিন্তু এখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, দামেস্কে এই বিমান হামলার মাধ্যমে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে তারা বার্তা দিতে চান যে, দ্রুজদের বিরুদ্ধে কোনো সহিংসতা সহ্য করা হবে না।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে