গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত ১৯ ফিলিস্তিনি
ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান ও ড্রোন হামলায় গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
গাজার পশ্চিমাঞ্চলে আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক ভবনে চালানো বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। আল-শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা হলেন ৩৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আবু তাইফ, তার ২৯ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবির আনান এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আজ্জাম। খান ইউনিস শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-কারারা এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় আল-হামস পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন মাহমুদ আল-হামস, তার স্ত্রী ফাতিমা এবং তাদের শিশুকন্যা। নাসের হাসপাতাল জানিয়েছে, ওই হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে হামলায় নিহত হন ৬৮ বছর বয়সী কামু আবু মুআইলিক এবং তার ৫৯ বছর বয়সী স্ত্রী হুদা। একই এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় চালানো আরেক হামলায় দুই ভাই নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে পৃথক এক হামলায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে চালানো হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের রেমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত হন। একই শহরে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও চারজন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় একদিনেই অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক প্রাণহানির ঘটনা।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
মতামত দিন