Views Bangladesh Logo

গাজায় হামলা বাড়িয়েই চলেছে ইসরায়েল, নিহত দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৩৯ জনে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও অন্তত ৬৭ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে।

গাজার বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আল–জাজিরা জানিয়েছে, রোববার (১৮ মে) ভোর থেকে সোমবার (১৮ মে) ভোর পর্যন্ত আহত হয়েছেন আরও ৩৬০ জনেরও বেশি।

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুসারে, আকাশ ও স্থলপথে ইসরায়েলি হামলায় গাজার দক্ষিণ, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়শিবিরে বিমান হামলায় মারা যান অন্তত ২৪ জন। আগুনে পুড়ে গেছে সেখানকার বেশ কিছু তাঁবু।

এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৩৯ জনে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ২১ হাজার ৩৪ জন ফিলিস্তিনি। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে বা রাস্তায় পড়ে আছেন। কিন্তু উদ্ধারকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় সেখানে পৌঁছাতে পারছেন না। চিকিৎসাকর্মীরাও জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলার মাঝেই এই হামলা চলছে। শনিবার (১৭ মে) শুরু হওয়া আলোচনায় এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, কেবল ১৮ মার্চ থেকে চলমান নতুন দফার হামলায়ই তিন হাজার ১৯৩ জন নিহত এবং আট হাজার ৯৯৩ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে আকাশ ও স্থলপথে হামলার মাত্রাও বেড়েছে। এই হামলা কার্যত জানুয়ারিতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে লঙ্ঘন করেছে।

সাম্প্রতিক এসব হামলাকে ‘নতুন এক নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে হামাস। বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে তারা।

ইসরায়েলি হামলা সম্প্রসারণ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে, বলছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও।

এ হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও আগের এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে তারা বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

দীর্ঘ ১৫ মাসের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯ জানুয়ারি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর দুই মাস গাজায় কিছুটা শান্তি বজায় ছিল। কিন্তু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে হামাসের বিরোধিতায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অঞ্চলটির অধিকাংশ অবকাঠামো আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ভয়াবহ হামলা চালালে যুদ্ধে জড়ায় দুই পক্ষ। হামাসের হাতে এখনও ৫৮ জন জিম্মি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরের মাস নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, গণহত্যার মামলারও মুখোমুখি হয়েছে ইসরায়েল।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ