প্রতিদিন গোসল কি সত্যিই জরুরি? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রতিদিন গোসল করা অনেকের কাছেই দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, প্রতিদিন গোসল করলেই যে বাড়তি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়, এমন প্রমাণ খুব সীমিত। বরং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত গোসল ও সাবান ব্যবহারে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, মানুষের ত্বকে থাকা অণুজীবের একটি স্বাভাবিক পরিবেশ রয়েছে, যাকে স্কিন মাইক্রোবাইওম বলা হয়। অতিরিক্ত সাবান, গরম পানি ও ঘন ঘন গোসলের কারণে এই ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া কিংবা সংবেদনশীলতা বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে নিয়মিত হাত ধোয়ার গুরুত্বের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। জীবাণু সংক্রমণ ঠেকাতে হাত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন গোসলের অভ্যাসকে অনেক বিশেষজ্ঞ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ফল হিসেবেও দেখছেন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে ঘরে ঘরে পানির সরবরাহ, ব্যক্তিগত বাথরুম ও শাওয়ার সহজলভ্য হওয়ার পর দৈনিক গোসলের প্রবণতা দ্রুত বাড়ে। পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন শিল্পও গোসলকে শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় হিসেবে না দেখিয়ে সতেজতা, মানসিক প্রশান্তি ও নতুন উদ্যমের সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করে। ফলে প্রতিদিন গোসল করা ধীরে ধীরে সামাজিক প্রত্যাশার অংশ হয়ে ওঠে।
কম গোসলের বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন তারকা ও পরিচিত ব্যক্তির বক্তব্যের কারণেও আলোচনায় এসেছে। অভিনেতা অ্যাশটন কুচার, জোনাথন রস ও আমেরিকা ফেরেরার মতো কয়েকজন তারকা নিয়মিত গোসল না করার অভ্যাসের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। পরিবেশবিদ ডোনাচাধ ম্যাককার্থিও দীর্ঘদিন ধরে কম গোসল করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতো কেউ কেউ গোসলের পরিবর্তে শরীরের প্রয়োজনীয় অংশ পানি দিয়ে পরিষ্কার রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
চিকিৎসক জেমস হ্যাম্বলিনের মতে, কম গোসল করার অভ্যাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তার পেছনে ত্বকের স্বাভাবিক জীবাণুসমষ্টি সম্পর্কে সীমিত ধারণাও দায়ী। তবে কত ঘন ঘন গোসল করা প্রয়োজন, তার কোনো একক নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, ঘাম, ত্বকের ধরন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন অনুযায়ী এর মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শুধু অভ্যাসের কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় গোসল করার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর পরিষ্কার রাখা যেতে পারে। ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ঘামের পর গোসল করা এবং বগল, কুঁচকি ও দুর্গন্ধপ্রবণ অংশগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। গোসলের সময় অতিরিক্ত গরম পানি ও কড়া সাবান এড়িয়ে চলাও ত্বকের জন্য উপকারী। তবে গোসলের বিরতি যাই হোক, খাবারের আগে ও পরে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস অবশ্যই বজায় রাখতে হবে।
মতামত দিন