বিশ্বকাপে ভোর ৪ টায় ইরাক-নরওয়ে মহারণ, নজর হালান্ডের দিকে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে মঙ্গলবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মুখোমুখি হবে এশিয়ার শক্তিশালী দল ইরাক ও ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচকে ঘিরে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে মরিয়া উভয় দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম আর্লিং হালান্ড। ক্লাব ফুটবলে একের পর এক গোল করে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এই তারকা এবার জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের ছাপ রাখতে চান। তার সঙ্গে মাঝমাঠে ও আক্রমণে নরওয়ের আরও কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম।
তবে নরওয়ের জন্য কাজটা মোটেও সহজ হবে না। ইরাক বরাবরই লড়াকু মানসিকতার দল হিসেবে পরিচিত। শক্তিশালী রক্ষণভাগ, সংগঠিত মাঝমাঠ এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ ইরাকের অন্যতম বড় অস্ত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে দলটি। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তারা কোনোভাবেই নিজেদের দুর্বল প্রমাণ করতে চাইবে না।
গ্রুপ ‘আই’-এ রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স এবং আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি সেনেগাল। ফলে এই গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই অত্যন্ত কঠিন হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট অর্জন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জয় পেলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যাবে।
নরওয়ে কাগজে-কলমে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে অতীতের অভিজ্ঞতা বলে দেয়, এখানে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ইরাকও চাইবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে চমক দেখাতে। অন্যদিকে নরওয়ে চাইবে তাদের তারকাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে।
গ্রুপ ‘আই’-এর এই লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা একটি জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন। এখন দেখার বিষয়, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে পারে কি না, নাকি ইরাক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম বড় চমক উপহার দেয়।
মতামত দিন