কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইরানের ড্রোন হামলা
উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও অঞ্চলটির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের বাসভবন লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গত সোমবার সংঘটিত এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কুর্দিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থা।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, হামলা দুটি ইরানি ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছে। তবে ড্রোনগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি বলেন, ‘আমি এই বেপরোয়া ও অগ্রহণযোগ্য হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তিনি এ হামলাকে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি এবং বিপজ্জনক উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনার উৎস ও নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে ফোনালাপে স্পষ্ট করেছেন যে, এটি ইরানের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছে—এমন কোনো তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
পরবর্তীতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ হামলার নিন্দা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। তিনি বলেন, ‘কুর্দি বন্ধুদের উচিত প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকা।’
উল্লেখ্য, ইরান ও তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ তুলে আসছে যে, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলটি ইরানবিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কুর্দি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন ও রকেট হামলা নতুন নয়। এর আগেও এই অঞ্চলটির অন্যতম বৃহত্তম খোরন মোর গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় চারজন ইয়েমেনি শ্রমিক নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
সূত্র: রয়টার্স
মতামত দিন