বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ইরানি সেনাবাহিনীর
ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ইরানের সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তারা দেশের কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ‘বড় বিক্ষোভ’ দমনের লক্ষ্যে এই ঘোষণা দেওয়া হলো।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ নিয়ে ইরান সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দেন। এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিরাজ, কুম ও হামেদানে বিক্ষোভে নিহত বলে দাবি করা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য প্রচার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েল ও ‘শত্রুভাবাপন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ জননিরাপত্তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, পশ্চিম ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যেই ধর্মীয় শাসকদের ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানাচ্ছেন। বিদেশ থেকে ইরানের সর্বশেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিক্ষোভকারীদের ‘শহরের কেন্দ্র দখল’ করার আহ্বান জানান এবং দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেন।
চিকিৎসা সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক আহত বিক্ষোভকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন। একটি হাসপাতালে অন্তত ২০ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজন পরে মারা যান। আইআরজিসিও তাদের সহযোগী বাহিনী বাসিজের সদস্যদের হতাহতের কথা স্বীকার করেছে।
এই বিক্ষোভকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানের শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং গত বছরের যুদ্ধের পর এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে