অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাবে না ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো শান্তি আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন শান্তি বৈঠকে দেশটি কোনো প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে না। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ যতদিন চলবে, ততদিন তারা কোনো ধরনের আলোচনা বা কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠককে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট সমাধানের ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে প্রচার করছে, তেহরানের এই কঠোর সিদ্ধান্ত পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একতরফা অবরোধ বজায় রেখে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব, যা ইরানের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু অবরোধ আরোপই করেনি, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের জাহাজ জব্দ করা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছে। এর জবাবে ইরান তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। দেশটির সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শান্তি আলোচনার আগে উভয় পক্ষের এই বৈরী আচরণ ও সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে