Views Bangladesh Logo

উত্তেজনার মধ্যেই ওমানে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু আলোচনা, খামেনিকে কড়া সতর্কতা ট্রাম্পের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী শুক্রবার ওমানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অভিযানের কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো তীব্র রয়েছে।

এর আগে আলোচনা কীভাবে হবে এবং কী বিষয় এতে থাকবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, তার “খুব চিন্তিত হওয়া উচিত”।

প্রাথমিকভাবে তুরস্কে বড় পরিসরে আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আনার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে ইরান শুধু পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সীমিত আলোচনায় সম্মত হয়, যেখানে কেবল তেহরান ও ওয়াশিংটন সরাসরি অংশ নেবে।

ওমান দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। আগেও সেখানে এ ধরনের আলোচনা হয়েছে। তবে গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের পর সেই আলোচনা ভেঙে যায়। ওই সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওমানে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি বলেন, আলোচনার সফলতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সন্দিহান। একই সঙ্গে কয়েকজন আঞ্চলিক নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি পরিত্যাগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সম্প্রতি একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দ্রুতগতির নৌযান একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ আটকানোর চেষ্টা করে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে “ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনা” চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সমর্থন থাকায় আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থানে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আলোচনার পরিসর বাড়িয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠী এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করতে চায় ওয়াশিংটন। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। যদিও তারা এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা প্রায় অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

এদিকে তুরস্ক দুই পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, ইরানে বিদেশি হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ