Views Bangladesh Logo

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটিতে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সরকারবিরোধী আন্দোলন চলার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতেই এই আগাম প্রতিরক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিসহ সম্ভাব্য হামলার একাধিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও কর্মীদের আংশিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই উত্তেজনা আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকে জানানো হয়েছে—তাদের ভূখণ্ড বা আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে কোনো হামলা চালানো হলে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

এরপর সৌদি আরব তেহরানকে আশ্বস্ত করে জানায়, তাদের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ওয়াশিংটন।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের প্রধান বিচারপতি ঘোষণা দিয়েছেন, রাজপথে নাশকতা, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তবে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান আপাতত বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। যদিও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রতিদিন বহু সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন।

চরম উত্তেজনার কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমিত যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল, সেটিও এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের লাগাতার সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ আর নেই।

এ ঘটনার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়েছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে পদযাত্রা করেছেন। অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী সমাবেশ করেছেন সরকারপন্থীরা।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ