৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করলো ইরান
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে দেশটির সরকার।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বুধবার এই ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কূটনৈতিক চাপের মুখে ইরান সিদ্ধান্তটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান গণবিক্ষোভের কারণে তেহরানের শাসনব্যবস্থা যে গভীর সংকটে পড়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।
ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার চরম অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিই এ বিক্ষোভের প্রধান কারণ।
আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ইরানি রিয়ালের মূল্য ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়াল লেনদেন হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটের মাধ্যমে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, সহিংস দমন-পীড়নে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি দেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে, যা আপাতত সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কমাতে পারে।
যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আন্দোলন চলমান রয়েছে, তবুও বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণ রক্ষা পাওয়াকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে