যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ছয় শর্ত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ছয়টি প্রধান শর্ত ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি সম্ভব নয়।
রোববার (২২ মার্চ) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। ওই কর্মকর্তার মতে, ইরান কয়েক মাস আগে থেকেই একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্য’ বজায় রেখে তেহরান স্পষ্ট করেছে, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।
লেবাননের আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর বিমান প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান।
তিনি আরও বলেন, আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়া যায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর নীতির কঠোর জবাব দেওয়া সম্ভব হয়। তেহরান জানিয়েছে, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান তাদের পূর্বশর্ত থেকে সরে আসবে না।
ইরানের উত্থাপিত ছয়টি শর্ত হলো— ভবিষ্যতে যেন আর কোনো যুদ্ধ না হয় সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা; মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ; যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ; পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ; কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গঠন; এবং ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তির বিচার ও তাদের ইরানে প্রত্যর্পণ।
ইরান সরকার মনে করছে, এসব শর্ত একটি নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ, যা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের মতো শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে