যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, যুদ্ধ চলছেই
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের একজন উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ‘অত্যন্ত বাড়াবাড়ি ও অযৌক্তিক’। প্রত্যাখ্যানের এই খবর আসার সময়ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলা এবং দক্ষিণ তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চলছিল।
‘কাগজে দেখতেও সুন্দর নয়’
তেহরানের ওই কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, মার্কিন প্রস্তাবটি ‘কাগজে দেখতেও সুন্দর নয়’ এবং এটি ‘প্রতারণামূলক’ মন্তব্য করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পরোক্ষ আলোচনা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।
পাকিস্তান জবাবের অপেক্ষায়
পাকিস্তান এই প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনা হলে সেটি পাকিস্তান বা তুরস্কে হতে পারে।
মার্কিন প্রস্তাবে কী ছিল
ইসরায়েলের তিনটি মন্ত্রিসভা সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে এই প্রস্তাব সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবে ছিল— ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ সরিয়ে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করা। ইসরায়েল সন্দেহ করছে ইরান এই শর্তে রাজি হবে না।
‘কোনো চুক্তি নয়, এখনও না, কখনও না’
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাদের মতো মানুষ কখনো আপনাদের মতো মানুষের সঙ্গে চুক্তি করবে না। এখনও না, কখনও না।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যেকোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করে বলেছে, পারমাণবিক আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোয় ‘মার্কিন কূটনীতিকে বিশ্বাস করা যায় না।’
চারদিকে হামলা অব্যাহত
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের জাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার কথা জানিয়েছে। ইরানের একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে— যেখানে দেশটির ৭০ শতাংশ তেলের মজুদ রয়েছে— মধ্যরাত থেকে প্রায় ৩০টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যায়, তবে কোনো হতাহতের খবর নেই।
অন্যদিকে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল, কুয়েত, জর্দান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন হামলা চালিয়েছে।
স্কুলে হামলা নিয়ে জাতিসংঘে বিতর্ক
যুদ্ধের প্রথম দিন দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে হামলায় ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়। এই ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ শুক্রবার জরুরি বিতর্কের আয়োজন করবে। ইরান, চীন ও কিউবার অনুরোধে এই বিতর্কের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি
হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম টেলিভিশনে ভাষণে বলেছেন, তার যোদ্ধারা ‘সীমাহীনভাবে’ লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়, ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে