Views Bangladesh Logo

হরমুজ প্রণালি দখলের দাবি প্রত্যাখ্যান, ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্রে ইরানের জবাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণার বক্তব্যের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরান। ভারতের হায়দরাবাদে ইরানের কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই মানচিত্রে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মূলত একতরফাভাবে কোনো আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডকে নিজের অংশ হিসেবে দাবি করার ট্রাম্পের বক্তব্যের অসারতা তুলে ধরতেই এমন ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান শোচনীয়ভাবে হারছে। ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর দ্রুত হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন না চাইলে কোনো জাহাজই ওই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে কিংবা কোনো একক আদেশ জারি করে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে এবং সবসময় ইরানেরই থাকবে।

গারিবাবাদি আরও বলেন, ট্রাম্প যেভাবে ‘পারস্য উপসাগর’ নামটি সঠিকভাবে লিখতে পেরেছেন, একইভাবে শিগগিরই হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাঁর ভুল ধারণাও শুধরে যাবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আল-জাজিরার এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের একতরফা ঘোষণায় কোনো ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব পরিবর্তন হয় না।

মার্কিন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্রুস ফেইনের মতে, প্রেসিডেন্ট এককভাবে কোনো অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন না। এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত চুক্তি বা বিশেষ আইনের প্রয়োজন হয়।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ নাটালি ক্লেইনের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরান বা তার উপকূলীয় এলাকা দখল করতে হবে। এমন পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শাসনের সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী, উপকূলীয় কোনো দেশের আঞ্চলিক জলসীমা সর্বোচ্চ ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত হতে পারে। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল। ফলে সেখানে ইরান ও ওমানের ১২ নটিক্যাল মাইলের আঞ্চলিক জলসীমা পরস্পরের কাছাকাছি চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই ওই সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের পক্ষভুক্ত নয়। তবে প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলপথসংক্রান্ত অনেক নীতিকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রচলিত ও স্বীকৃত নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণার হুমকির পরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক জবাব আসে। হায়দরাবাদে ইরানের কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ