ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি (মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে এসেছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন ও উত্তেজনা বৃদ্ধিকে এই চুক্তি থেকে সরে আসার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং যেকোনো মূল্যে এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করবে তেহরান।
ইসলামাবাদ সমঝোতা নিয়ে ইরানের এখন আর কোনো অঙ্গীকার নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনায় না বসার ইঙ্গিত।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ১৪ দফার এই সমঝোতায় গত ১৭ জুন সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের অবসানে এই সমঝোতা হয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয় ইরান, বিনিময়ে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ওয়াশিংটন।
গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির ওমানি জলসীমায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেল ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যায়। আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মোম্বাসা ও আল বাহিয়া নামের এই দুটি ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যাতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এর জবাবে ইরানের সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সর্বশেষ এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে কার্যত ইসলামাবাদ সমঝোতার ইতি ঘটল, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মতামত দিন