কঠোর দমন–পীড়নে ইরানে গণআন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত: রয়টার্স
ইরানের সারাদেশে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন–পীড়নের কারণে রাস্তায় প্রতিবাদ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবারও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নতুন করে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরানের এক মা তার কিশোরী মেয়ের মৃত্যুর কথা তুলে ধরে বিক্ষোভ দমনের নির্মম চিত্র বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে কোনো আন্দোলনকারী ছিল না। বাড়ি ফেরার সময় বাসিজ বাহিনীর সদস্যরা তাকে আন্দোলনকারী সন্দেহে অনুসরণ করে এবং একপর্যায়ে হত্যা করে। বাসিজ বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অধীন একটি আধাসামরিক বাহিনী, যারা বিক্ষোভ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত।
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার থেকে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। সর্বত্র কড়া নিরাপত্তা, আকাশে ড্রোন টহল দিচ্ছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার কোনো বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়নি। নরওয়ে–ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাউ গ্রুপ জানিয়েছে, রোববারের পর বড় কোনো সমাবেশ হয়নি, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৭৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৭৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৬৩ জন সরকারপন্থী। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৯ হাজারের বেশি মানুষ।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদা ফোনালাপ করেন। ক্রেমলিন জানায়, পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, পেজেশকিয়ান পুতিনকে বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অস্থিরতায় সরাসরি জড়িত।
গত ২৮ ডিসেম্বর রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ধর্মীয় শাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।
ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু হওয়ার পর নির্যাতনের নতুন তথ্য সামনে আসছে। কারাজ শহরে এক নার্সকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কুর্দি অঞ্চলেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার খবর মিলছে। রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিওতে তেহরানের ফরেনসিক কেন্দ্রে একাধিক মরদেহ দেখা গেছে।
সরকার দাবি করছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে