মার্কিন স্থল হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল হামলা চালায় তবুও তেহরান তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং দেশটিতে মার্কিন সেনাদের প্রবেশে ভয় পায় না।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা তিনি করছেন কি না। জবাবে আরাঘচি বলেন, “না, আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।”
এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের পর ইরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠন অব্যাহত রাখে তাহলে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশটি প্রায় ৮ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলতে পারে।
বিদেশে অবস্থানরত ফারসি ভাষার গণমাধ্যমগুলোর জন্য আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ওই মুখপাত্র বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘাতের পর তেহরান আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা পুনর্গঠন শুরু করেছে এবং একই সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এই যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ওই সংঘাতে এর অনেকগুলো ব্যবহৃত বা ধ্বংস হয়ে যায়।
মুখপাত্র বলেন, শনিবার ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’ শুরু হওয়ার সময় পর্যন্ত নতুন করে এবং ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে তারা প্রায় ২ হাজার ৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে ইরানের কাছে ৮ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারত।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালায়। ইসরায়েল এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়ন্স রোর’।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৪০ জন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা নিহত হন। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক সক্ষমতাও ধ্বংস করা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইরানে চলমান যুদ্ধ টানা ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সংঘাতে প্রায় ১ হাজার মানুষ নিহত এবং ৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে