হরমুজ প্রণালী পেরোতে চীনা মুদ্রায় লেনদেনের শর্ত ইরানের
চীনা মুদ্রা ইউয়ানে তেল লেনদেনের বিনিময়ে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান।
ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিতসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়ার বিষয়ে ভাবছে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত থাকবে—তেলের দাম চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জলপথে তেলবাহী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেহরান বৃহত্তর এক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং এই প্রস্তাব তারই অংশ। তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বিশ্ববাজারে অধিকাংশ তেল লেনদেন মার্কিন ডলারে হলেও সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ক্রমেই রুশ মুদ্রা রুবল বা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের এমন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরিতে তেলের দামে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাজারের তথ্য বলছে, চলমান উত্তেজনার জেরে ইতোমধ্যেই প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে যা আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন সাধারণত ডলারে হয়ে থাকে তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার তেলের লেনদেন রুবল বা ইউয়ানে হচ্ছে।
বিশ্বের জ্বালানি-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার কারণে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর যে স্তরে পৌঁছেছিল তেলের দাম, এখন তা সেই সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার কাজে বিরাট প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক বিষয়-সংক্রান্ত আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার বলেন, ‘এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গেলে তার ফল সুদূরপ্রসারী হবে। খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রী সরবরাহ কঠিন হয়ে যাবে এবং পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পাবে।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে