হরমুজ প্রণালি ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা ইরানের
আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, হরমুজে অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করায় একটি জাহাজকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে থামানো হয়েছে। ওই ঘটনার পরই প্রণালিটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। রোববার (১২ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বারবার নির্দেশ দেওয়ার পরও জাহাজটি নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেনি; পরে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে সেটিকে থামানো হয়। এই ঘটনার পর এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে, কোনো জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে এ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের নতুন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের এ ঘোষণা এসেছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এক মুহূর্তে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা নিয়ে শনিবারই ওমানের মাসকাটে ওমানি ও কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেই আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সিতে হামলার ঘটনা ঘটে, যার জেরে ইরানে তৃতীয় দফায় হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছিল ইরান। তাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়, বিঘ্নিত হয় উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপরিবহন।
মতামত দিন