জর্ডানে মার্কিন সামরিক বিমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, হামলায় মার্কিন সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং পি-৮ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল বিমান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি সামরিক বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অপারেশন নাসর-২’-এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, জর্ডানের স্থানীয় বাসিন্দাদের সরবরাহ করা গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করা হয়।
বিবৃতিতে স্থানীয়দের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইআরজিসি আরও দাবি করে, এর আগে জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো রকেট হামলাও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের সহায়তায় সম্ভব হয়েছিল। ওই হামলায় ২০টি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস এবং ডজনখানেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিল বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।
এ ঘটনার আগে ইরানের কয়েকটি প্রধান শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক হামলার জবাবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মতামত দিন