Views Bangladesh Logo

গ্রুপ-‘জি’

শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত আক্রমণেই ভরসা ইরানের

এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল ইরান আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের একটি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইরান জাতীয় ফুটবল দল ২১তম স্থানে রয়েছে। সংগঠিত রক্ষণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় খেলা এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই ইরানকে আলাদা করে চেনায়। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দলটি বড় আসরে চমক দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
ইরান বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশ নেওয়া এশিয়ার অন্যতম দল। ১৯৭৮ সালে প্রথমবার অংশগ্রহণের পর থেকে তারা একাধিকবার বিশ্বমঞ্চে খেলেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। তবুও প্রতিবারই শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এবারের আসর হবে তাদের ৭ম বিশ্বকাপ।

শক্তিমত্তা
ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা। ডিফেন্সে তারা খুবই সংগঠিত এবং প্রতিপক্ষকে সহজে গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেয় না। মাঝমাঠে কঠোর পরিশ্রম ও বল দখলের লড়াইয়ে তারা কার্যকর। বল কাড়ার পর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার ক্ষমতা তাদের অন্যতম অস্ত্র। উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলা এবং সেট-পিস থেকে সুযোগ তৈরি করতেও তারা দক্ষ। দলগত সমন্বয় ও শৃঙ্খলাই তাদের মূল শক্তি।

দুর্বলতা
তবে ইরানের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। আক্রমণে ধারাবাহিক গোল করার মতো বিশ্বমানের ফিনিশারের অভাব মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। বড় দলের বিপক্ষে বল দখল ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, ফলে আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ কমে যায়। এছাড়া চাপের মুখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার প্রবণতাও দেখা যায়। প্রতিপক্ষ যদি দ্রুতগতির আক্রমণ করে, তাহলে রক্ষণভাগেও কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন। গোলপোস্টে আলিরেজা বেইরানভান্দ, যিনি ইরানের ক্লাব পারসেপোলিস-এর হয়ে খেলেন, দলের নির্ভরযোগ্য ভরসা। ডিফেন্সে তুরস্কের ক্লাব কাইসেরিস্পোর-এর হয়ে খেলা মাজিদ হোসেইনি রক্ষণভাগকে শক্তিশালী করেন। মাঝমাঠে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলি-এর হয়ে খেলা সাঈদ এজাতোলাহি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। আক্রমণে পর্তুগালের ক্লাব এফসি পোর্তো-এর স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি দলের প্রধান গোলদাতা, যিনি ইউরোপের ফুটবলে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। এছাড়া জার্মানির ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন-এর হয়ে খেলা সর্দার আজমুন আক্রমণে গতি ও সৃজনশীলতা যোগ করেন।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
গ্রুপ জি-তে ইরানের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন পরীক্ষা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শক্ত রক্ষণ গড়ে তুলে কাউন্টার অ্যাটাক কাজে লাগাতে হবে। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে সমানতালে লড়াই, যেখানে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদিও সেই পজিশনে ইরান কিছুটা এগিয়ে থাকবে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শারীরিক ফুটবল ও সেট-পিস মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালেও সেই ম্যাচে ইরানের পক্ষে ফল যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
ইরানকে সাধারণত আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হলেও তাদের সংগঠিত খেলা ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা বড় দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদি তারা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারে এবং আক্রমণভাগ কার্যকর হয়, তাহলে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর সম্ভাবনা আছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ইরান এবারের বিশ্বকাপে আরো চমক দেখাতে সক্ষম।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ