Views Bangladesh Logo

শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দ্বিতীয় ত্রি-পাক্ষীক সালিশি সভা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ


করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের মে মাসে গ্রামীনফোনের ১৮০ জন স্থায়ী কর্মীকে চাকুরিচ্যুত করেছিল মোবাইল অপারেটর কোম্পানিটি। এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি হাইকোর্ট ও সর্বশেষ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) শ্রম ভবনে গ্রামীনফোন, শ্রম অধিদপ্তর ও গ্রামীণফোন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের মধ্যে ত্রি-পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই সভা শেষ হয়েছে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই।
সভার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক (ট্রেড ইউনিয়ন ও সালিশী) এস.এম এনামুল হক ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, উকিল নোটিশ হয়েছে, হাইকোর্টে রিট হয়েছে। পরে জানলাম সেটা স্থগিত হয়ে গেছে। এখনও পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেইনি। সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পরে আমরা বুঝবো আসলে কি ঘটেছে। আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। কিন্তু এখন হাইকোর্ট প্রক্রিয়াটা থামিয়ে দিল, নাকি চলমান রাখতে বললো; নাকি রিভাইজড করলো-সেটা আমরা এখনও অফিসিয়ালি কিছু জানি না। জানার পর কোর্ট যে আদেশ দেবে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করবো।
জানা গেছে, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের মে মাসে গ্রামীণফোন মালিকপক্ষের অবৈধ লক আউটের শিকার হয়েছেন ১৮০ জন স্থায়ী কর্মী। ফলে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (সিবিএ) সংস্থাটির স্বীকৃত যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসেবে মালিকপক্ষের এই অবৈধ লক আউটের শিকার ১৮০ জন স্থায়ী কর্মীকে অনতিবিলম্বে স্ব স্ব কর্মে নিয়োজিত করার দাবি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। কিন্তু গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ উক্ত বিরোধটি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে যৌথ দরকষাকষির নিমিত্তে কোন সভার ব্যবস্থা না করে সিবিএর সঙ্গে যৌথ দরকষাকষি করতে অস্বীকার করে।
ভুক্তভোগী কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের অবৈধ লক আউটের শিকার ১৮০ জন স্থায়ী কর্মীকে কাজে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে গ্রামীণফোনের স্বীকৃত যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) হিসেবে গ্রামীনফোন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ) গত ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি তারিখে শ্রম অধিদপ্তরে একটি শিল্প বিরোধ অভিযোগ দাখিল করে। পরবর্তীতে শিল্প বিরোধ অভিযোগটি পর্যায়ক্রমে হাইকোর্ট এবং সর্বশেষ মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান থাকে।
কিন্তু, শিল্প বিরোধ মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গ্রামীনফোন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ লেবার আইনের ধারা ২২৮ উপেক্ষা করে গত ২০২১ সালের ২০ জুন ১৫৯ জন স্থায়ী কর্মীকে অবৈধভাবে ছাটাই করে। এরই ধারাবাহিকতায় দায়ের করা চলমান শিল্প বিরোধ মামলাটির চূড়ান্ত নিস্পত্তির জন্য আপিল বিভাগ ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চলমান শিল্প বিরোধটিকে সঠিক বলে রায় দিয়েছেন এবং শ্রম অধিদপ্তরকে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু চলতি বছরের ৮ নভেম্বর শ্রম অধিদপ্তরে সালিশি বোর্ডে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকে গ্রামীনফোন অনুপস্থিত ছিল। তবে বাদী পক্ষের বক্তব্য শোনেন সালিশ বোর্ড।
সভা সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ত্রিপক্ষীয় সভায় গ্রামীণফোন প্রতিনিধি আপিল বিভাগের রায়ের পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টে আরজি করেছে বলে জানিয়েছে।
গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস, শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, "গ্রামীণফোন দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সকল নিয়ম মেনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে। মাননীয় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।"

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ