Views Bangladesh Logo

আসামের হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৫

ভারতের আসামের রাজধানী গুয়াহাটির একটি হোটেলে এলোপাতাড়ি গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার রাতে শহরের জিএস রোডসংলগ্ন বোরা সার্ভিস এলাকার ‘বিলাস ইন’ হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে হোটেল থেকে পরপর গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হোটেলের বাইরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও একজনকে পাওয়া যায়। তাঁকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় হোটেলকর্মী সত্যেন্দ্র পাঠক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর হাতে গুলি লেগেছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হোটেলটির মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে এষাণ কাশ্যপ ওরফে দেবর্ষি কাশ্যপ, তাঁর দাদা ভূদেব ভরালি, নারায়ণ দাস এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে জঙ্গি হামলা বা আকস্মিক সশস্ত্র ছিনতাই বলে মনে হচ্ছে না। বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোটেলটির মূল মালিক ছিলেন বরপেটার ব্যবসায়ী প্রয়াত ধ্রুব ভরালি। তাঁর মৃত্যুর পর হোটেলটির মালিকানা পান স্ত্রী হেলেনা ভরালি ও পরিবারের সদস্যরা। প্রায় এক বছর আগে হোটেলটি পরিচালনার জন্য ঘনকান্ত গগৈকে লিজ দেওয়া হয়। এরপর লিজের চুক্তি, বকেয়া অর্থ ও হোটেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

সোমবার রাতে এ-সংক্রান্ত আলোচনা বা সমঝোতার সময় বচসা চরমে ওঠে। একপর্যায়ে ঘনকান্ত গগৈ পিস্তল বের করে হোটেলের মালিকপক্ষ ও কর্মচারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে পল্টনবাজার এলাকায় আত্মগোপনের চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পয়েন্ট ৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত বলেন, অপরাধে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে ফরেনসিক ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষা চলছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ