মহাকাশে হারিয়ে গেল ভারতের ১৬ উপগ্রহ
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ইসরো'র একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট [উপগ্রহ] এবং বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক পেলোডসহ উৎক্ষেপিত পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (পিএসএলভি) তৃতীয় ধাপে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে। এরপর ১৬টি উপগ্রহ নিয়ে কক্ষপথে পৌঁছানোর আগেই নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়ে পিএসএলভি রকেটটি। এর ফলে ২০২৬ সালের প্রথম মিশনেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ল ভারতের মহাকাশ সংস্থা।
সোমবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ৪৪.৪ মিটার লম্বা চার স্তরের এই রকেটটি নির্ধারিত সময়েই উৎক্ষেপণ করা হয়। ইসরোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রকেটটির প্রথম দুটি ধাপ বা স্টেজ প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করলেও তৃতীয় ধাপের শেষ দিকে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়।
মিশন কন্ট্রোল সেন্টারে ইসরোর প্রধান ভি নারায়ণন বলেন, 'পিএসএলভি একটি চার স্তরের বাহন। তৃতীয় ধাপের শেষ পর্যন্ত এর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তৃতীয় ধাপ শেষ হওয়ার ঠিক আগে রকেটে কিছু সমস্যা দেখা যায় এবং এরপর ফ্লাইটের গতিপথ বা ট্রাজেক্টরি বিচ্যুত হয়ে যায়। আমরা তথ্য বিশ্লেষণ করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব বিস্তারিত জানাব।'
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালেও পিএসএলভির একটিমাত্র উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছিল এবং সেবারও সমস্যা হয়েছিল তৃতীয় ধাপে।
এই পিএসএলভি-সি৬২ মিশনের লক্ষ্য ছিল ১,৬৯৬ কেজি ওজনের 'ইওএস-এন১' আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট এবং ১৫টি কো-প্যাসেঞ্জার উপগ্রহকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সবকটি উপগ্রহ মহাকাশে হারিয়ে গেছে।
ইসরোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এটি নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেডের একটি বাণিজ্যিক মিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইওএস-এন১ এবং ১৪টি উপগ্রহকে 'সান সিনক্রোনাস অরবিট' বা সূর্য সমলয় কক্ষপথে স্থাপন করার কথা ছিল। এরপর 'কিড' ক্যাপসুলকে রি-এন্ট্রি ট্রাজেক্টরিতে প্রবেশ করানো হতো।
ইসরো আরও জানিয়েছিল, উপগ্রহগুলো স্থাপনের পর রকেটের চতুর্থ ধাপ বা পিএস৪ পুনরায় চালু (ডি-বুস্ট) করে রি-এন্ট্রি ট্রাজেক্টরিতে নেওয়া হতো এবং এরপর কিড ক্যাপসুল আলাদা হয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত পিএস৪ এবং কিড ক্যাপসুল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পতিত হওয়ার কথা ছিল।
হারিয়ে যাওয়া উপগ্রহগুলোর মধ্যে ছিল ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার তৈরি অত্যন্ত গোপনীয় নজরদারি উপগ্রহ 'অন্বেষা'। এটি ভারতকে উন্নত ইমেজিং সক্ষমতা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
এছাড়াও হায়দরাবাদ-ভিত্তিক ধ্রুব স্পেসের 'থাইবল্ট-৩' এবং 'লাচিত' নামের উপগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি 'সিজিইউস্যাট' ও 'ডিএসইউস্যাট', এবং চেন্নাই-ভিত্তিক স্টার্টআপ অরবিটএইড অ্যারোস্পেসের 'আয়ুলস্যাট' ও গুজরাটের শিক্ষার্থীদের তৈরি 'সংস্কারস্যাট' হারিয়ে গেছে। নেপালের 'মুনাল' এবং স্পেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি 'কিড ক্যাপসুল'-ও এই ব্যর্থ মিশনের অংশ ছিল।
ব্রাজিল-ভিত্তিক অলটুস্পেস তাদের পাঁচটি স্যাটেলাইট হারিয়েছে। এর মধ্যে ছিল আইওটি সেন্সর, কৃষি ডেটা সংগ্রহ এবং রেডিয়েশন পরিমাপের জন্য তৈরি বিভিন্ন উপগ্রহ।
উৎক্ষেপণের আগের দিন ধ্রুব স্পেসের স্পেস মিশনের পরিচালক বিশাল লাথা বালাকুমার এনডিটিভিকে বলেছিলেন, 'পিএসএলভি সব সময়ই নির্ভরযোগ্য এবং এটি তেমনই থাকবে।' কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এবারের মিশনটি সফল হতে পারেনি।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে