Views Bangladesh Logo

ভারতে আলোচনার কেন্দ্র ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, হাস্যরসেই ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন

ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আলোচনায় এসেছে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই মিম, হাস্যরস ও সরকারবিরোধী বার্তার মাধ্যমে এটি কোটি কোটি অনুসারী অর্জন করেছে বলে জানা গেছে।

এই অনলাইন আন্দোলনটি সংক্ষেপে ‘সিজেপি’ নামে পরিচিত, যা ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ব্যঙ্গাত্মক প্রতিরূপ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের জন্ম হয়। এক শুনানিতে তিনি চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের কিছু অংশকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন, মন্তব্যটি মূলত ভুয়া ও অবৈধ ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল। তবে এই বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যঙ্গ-সমালোচনার জন্ম দেয়।

এ ঘটনার পর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়, যার দাবি করা হচ্ছে এটি ‘বেকার ও হতাশ তরুণদের কণ্ঠস্বর’।

প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত অভিজিৎ দীপকে, যিনি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত। তিনি পূর্বে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন “#MainBhiCockroach” (আমিও ককরোচ) হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দাবি করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারী কোটি ছাড়িয়েছে।

বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদবও এক পোস্টে ‘BJP v CJP’ লিখে এই প্রবণতার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে একইসঙ্গে আন্দোলনের একটি সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ভারতে আইনি কারণে সাময়িকভাবে ব্লক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন মূলত ভারতের তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক দূরত্বের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদের প্রতিফলন। যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক শক্তি নয়, তবুও ডিজিটাল রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ